সারাবাংলা কে শিক্ষার আলোকে উদ্ভাসিত করেছিলেন ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি সমগ্র জীবন কালে বাংলার মানুষকে যথার্থ শিক্ষিত করতে ব্রতী হয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিদ্যালয়। বিখ্যাত বই বর্ণপরিচয় তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত কর্মকান্ডের ফল। বছরের পর বছর ধরে এই বই থেকে অক্ষর জ্ঞান লাভ করছে বহু কচিকাঁচারা। তিনি ছিলেন দয়ার সাগর। এই বিখ্যাত মানুষটির দয়া দাক্ষিণ্যের নিদর্শন রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। বিদ্যাসাগরের জীবনী আজ অনেকেরই জানা। কিন্তু এই মহান মানুষটির সাথে সম্পর্কিত এমন কয়েকটি তথ্য রয়েছে যা অনেকেই নাও জানতে পারেন। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক এই সমস্ত অজানা তথ্য গুলি সম্পর্কে।
১) বিধবা বিবাহ প্রচলন করেছিলেন এই মহান মানুষটি। হিন্দু ধর্মের সমস্ত কুসংস্কারের বেড়াজাল গুলিকে তিনি ছিন্ন করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। জানেন কি তিনি নিজের ছেলের বিবাহ দিয়েছিলেন এক হিন্দু বিধবা মহিলার সাথে। এর জন্য তাঁকে সমাজের বিভিন্ন মানুষের বহু কটুক্তি সহ্য করতে হয়েছিলো। কিন্তু তবুও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তার ওই ছেলেকে বিদ্যাসাগর মহাশয় ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে বহু বিতর্কে সূত্রপাত হয়েছিল।
২) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর খুবই প্রতিভাশালী মানুষ ছিলেন। পড়াশোনাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু জানেন কি এই মানুষটার মধ্যে খুবই পরীক্ষা বিষয়ে ভয় বিরাজ করতো। স্কুলের পরীক্ষার সময়ে তিনি প্রচণ্ড ভীত হয়ে পড়তেন।
৩) জানা যায় বিখ্যাত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর লেখা চতুর্দশপদী কবিতাবলীর মধ্যে অন্তত দুটি সনেট এই মহান মানুষটিকে নিয়ে লিখেছিলেন।
৪) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূজনীয় পিতা অনেক চেষ্টাতেও বিদ্যাসাগর মহাশয় কে ছোটবেলায় স্নান করাতে পারতেন না। বহু চেষ্টার পরেও অন্তত দিন তিনেক তিনি কিছুতেই পুকুরে স্নান করতে যেতেন না। আবার যেদিন তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয় কে স্নান করতে নিষেধ করতেন সেদিন আবার বিদ্যাসাগর মহাশয় জোর করে স্নান করতে যেতেন। জানা যায় ছোটবেলায় খুব দুরন্ত এবং জেদি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
৫) বিদ্যাসাগর মহাশয় শেষ বয়সে তার গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি কখনোই তাঁর নিজের গ্রামে পা রাখেননি। জানা গিয়েছে বিদ্যাসাগরের গ্রামে এক বিধবা বিবাহ সম্পন্ন হবার তোড়জোড় প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বেশ কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রে সেই বিধবা বিবাহ ফলপ্রসূ হয়নি। যার দরুন তিনি গ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এবং কখনোই আর নিজের গ্রামে ফিরে যাননি।