বর্তমানে ভেষজ উপাদানের উপর ভরসা রাখেন প্রায় বেশিরভাগ মানুষ। আয়ুর্বেদিক ওষধি তৈরিতে ভেষজ উপাদান গুলির গুরুত্ব অপরিসীম। এরকমই এক ভেষজ উপাদান হলো নিম। নিম পাতার গুনাগুন সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রায় প্রত্যেকেই জানেন যে নিমপাতা হলো অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ বস্তু। অনেকই বাড়ির পাশে নিমগাছ বসিয়ে থাকেন। নিমপাতা থেকে শুরু করে তার শিকড়, ছাল সমস্ত কিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উপাদান বলে বিবেচিত হয়। তবে সবার ঊর্ধ্বে নিম পাতার গুনাগুন। আসুন পরিচিত হই নিই নিম পাতার বেশ কিছু ভেষজ গুনাগুন সম্পর্কে-
১) অনেক সময় রাসায়নিক উপাদান লাগে চোখ জ্বালা করতে থাকে, অথবা চোখ লাল হয়ে যায় অনেকেরই। এমতাবস্থায় এক বাটি জল নিয়ে তাতে বেশ কয়েকটি নিমপাতা রেখে জলটি ফোটাতে হবে। তারপর জলটি ঠান্ডা করে নিমপাতা ছেঁকে নিয়ে শুধুমাত্র ওই জল দিয়ে চোখের ঝাপটা দিলে , চোখ জ্বালা অথবা চোখ লাল হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
২) অনেক সময় শরীরের কোথাও জখম হলে ক্ষতস্থানে নিম পাতা বেটে তা লাগিয়ে দিলে ক্ষতস্থানে আর ইনফেকশন হওয়ার ভয় থাকে না। নিম পাতার মধ্যে রয়েছে এমনই এক গুণ যা, যে কোনো রকমের ক্ষত'তে ইনফেকশন হতে বাধা দেয়।
৩) অনেকেই মুখের মধ্যে কালো দাগ অথবা ব্রণ'র সমস্যায় ভোগেন। মুখে ব্রণ'র সমস্যা দূর করতে নিমপাতার জুড়ি মেলা ভার। নিমপাতা বেটে ব্রণ'র উপরে অথবা কালো দাগ গুলির উপরে লাগালে অচিরেই এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।
৪) অনেকেই খুশকির সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে নিমপাতা। একবাটি জলে বেশ কয়েকটি নিমপাতা ফেলে ফোটাতে থাকুন। তারপর ওই পাত্রটি নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। চুল শ্যাম্পু করে ধোয়ার পর আবার ওই পাত্রের নিমপাতা ফোটানো জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে খুশকির সমস্যা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন আপনি।
৫) বিভিন্ন রকম চর্মরোগে নিম পাতা এবং কাঁচা হলুদ মিশিয়ে বেটে নিয়ে প্রয়োগ করলে চর্মরোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
৬) প্রত্যহ যদি তিন থেকে চারটি নিম পাতা টুকরো টুকরো করে এক গ্লাস জল এর সাথে সেবন করা যায় তাহলে শরীর আরো রোগ প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
৭) অনেকেই হজম শক্তির গন্ডগোল বা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভোগেন। তারাও যদি প্রতিদিন নিম পাতা খেতে পারেন তাহলে প্রভূত উপকার পেতে পারেন।
৮) এছাড়াও মধুমেহ রোগীদের ক্ষেত্রে নিমপাতা একটি খুবই উপকারী পথ্য বলে বিবেচিত হয়।
৯) অনেকেরই মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে, মুখের দুর্গন্ধ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য নিম ডাল দিয়ে প্রতিদিন দাঁত মাজলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।