সারা পৃথিবীর বুক জুড়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসের জাল বিস্তার করেছে করোনাভাইরাস। এখনো পর্যন্ত এই ভাইরাসের তাণ্ডবে মৃত্যু ঘটেছে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের। সারা পৃথিবীব্যাপী তিন কোটিরও বেশি মানুষ করোনার গ্রাসে পড়েছেন। করোনাকে হারিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৫৭ জন।
প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখনো পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক সাধারণ মানুষের হাতে কবে তুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। সারা পৃথিবী জুড়ে আতঙ্কের এক কালো প্রহর ঘনিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি মানুষ মৃত্যুভয় কে সঙ্গী করে দিন কাটাচ্ছেন।
ভারতীয় প্রতি মুহূর্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গের বুকেও সন্ত্রাস চালাচ্ছে করোনা। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক করার জন্য। আগামী অক্টোবরেই বাঙালি বহু প্রতীক্ষিত দুর্গাপূজা শুরু হতে চলেছে। তবে প্রতি বছরের মতো এই বছরে এই প্রতীক্ষিত পূজাকে ঘিরে বাঙালির উন্মাদনায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে। তার কারণ এখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে রয়েছে মৃত্যুর বিভীষিকা। এই পরিস্থিতিতে প্রায় কেউই দুর্গাপূজার সেই পুরানো আমেজ ফিরে পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে। ব্যবসা থেকে শুরু করে চাকরি চতুর্দিকে এক দৈন্যদশা বিরাজ করছে। এরই মধ্যেই দুর্গাপূজা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল রাজ্যবাসীর। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে এ বছরেও কলকাতায় ধুমধাম সহকারেই দুর্গাপূজা হবে, কিন্তু থাকবে নানা রকমের বাধা নিষেধ। এই নিরিখে নবান্ন থেকে জারি হয়েছে নতুন গাইডলাইন। এই নতুন গাইডলাইন অনুসারে এবছর কলকাতার পূজা গুলি সম্পন্ন হবে। এমনিতেই প্রতিবছর কলকাতা দূর্গা পূজায় লক্ষাধিক জনসমাগম ঘটে। তাই এবারে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যাতে জনসমাগমে লাগাম টানা যায় তার জন্য বেশকিছু গাইডলাইন জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। যেমন,
১) এ বছর দুর্গাপূজায় আবদ্ধ অবস্থায় প্যান্ডেল করা চলবে না, প্যান্ডেল খরচা বহুল হলেও তা করতে হবে বেশ খোলামেলা ধরনের।
২) প্রত্যেকটি দর্শককে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্লাবের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দর্শকদের মধ্যেই যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা যায় সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
৩) প্রতিটি দর্শককে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। এই জন্য প্রতিটি প্যান্ডেলে স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর প্যান্ডেল কে স্যানিটাইজ করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
৪) রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে প্রত্যেকটি পূজা প্যান্ডেলে দর্শকদের প্রবেশ করার জন্য আলাদা গেট এবং প্রস্থানের জন্য আলাদা গেটের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫) কোন রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবেনা পূজা প্রাঙ্গণে। অর্থাৎ কোন রকমের জনসমাগম রাতে না হয় তার জন্য ক্লাবের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। যদি এই গাইডলাইনের অন্যথা হয় তাহলে সেই ক্লাবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে রাজ্য প্রশাসন।
তাই প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে, তাহলে খুব অচিরেই আমরা এই বিধ্বংসী মহামারীকে সমাজ থেকে দূরীভূত করতে পারব। সেই সাথে অতীতের চেনা-পরিচিত চিত্রগুলি কে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবো আমাদের মাঝে। আবার সবকিছু ভুলে এই শারদীয়ায় আনন্দে মেতে উঠতে পারব আমরা।