গত সপ্তাহেই রাজ্যসভায় পাস হয়েছে কৃষি বিল। এই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিরোধীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের এবং অন্যান্য মানুষদের ব্যাপক বিক্ষোভ রীতিমতো চোখে পড়ছে। এরপরেও রাজ্যসভায় পাস হয়ে গিয়েছে কৃষি বিল। সেই সাথে এই বিলে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি। বিক্ষোভ ফেটে পড়েছে উত্তরপ্রদেশে তেলেঙ্গানা কর্ণাটক পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী রীতিমতো ধর্নায় আসীন হয়েছেন। গত রবিবার ই-কৃষি বিলে সম্মতি জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রপতি তাতে ছাড়পত্র দিয়েছেন। যার ফলে এই কৃষি বিল এবার আইনে রূপান্তরিত হল।
এই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তামাম মানুষজন। প্রায় অনেকেই বলছেন যে এই নতুন কৃষি বিল হল কৃষকের সর্বনাশ, সেই সাথে সাধারণ মানুষকে চরম বেকায়দায় ফেলতে চলেছে এই কৃষি বিল। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি জানিয়ে আসছে যে এই বিল হল কৃষকদের অনুকূল পরিস্থিতির জন্য। এই বিল পাস হওয়ার ফলে কৃষকরা নাকি ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন।
ভারতের বহু জায়গায় কৃষি বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের গর্জে উঠেছে বিরোধীরা। অনেক জায়গায় কৃষিজ ফসল এবং যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে বিরোধীরা। এই বিষয়টি সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, "বিরোধীরা কৃষি যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে কৃষকদের অপমান করছেন। যেসব সামগ্রীর রীতিমতো পূজা করে কৃষকরা, সেই সব সামগ্রী কে পুড়িয়ে কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের চরম অবমাননা করা হচ্ছে বিরোধীদের দ্বারা। এমএসপি লাগু করার কাজটি স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আমাদের সরকার করেছে। আর বিরোধীরা এই এমএসপি ইস্যুকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করছেন। কিন্তু দেশের মধ্যে এই এমএসপি বলবৎ থাকবে। কৃষকরা যেকোনো জায়গাতেই তাঁদের ফসল বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু কৃষকদের এই স্বাধীনতা কিছু মানুষ একদমই সহ্য করতে পারছেন না। কারণ তাদের অসৎ উপায়ে উপার্জনের পথটি বন্ধ হয়ে গেল। তাই তারা অত্যন্ত চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বিরোধীরা।"
কিন্তু ক্রমেই বেড়ে চলেছে কৃষি বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগুন।