জানেন ABS কি ? মোটর বাইকের ব্রেকিং সিস্টেমে কিভাবে কাজ করে এটি?

30th September 2020 4:30 pm Information
জানেন ABS কি ? মোটর বাইকের ব্রেকিং সিস্টেমে কিভাবে কাজ করে এটি?


বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে রয়েছে মোটরবাইক। যত দিন যাচ্ছে ততই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন মোটরবাইক আসছে ভারতীয় বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামি দামি মোটরবাইক রয়েছে। বর্তমানে মোটরবাইক গুলিতে নিত্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অন্যতম এক প্রযুক্তি হল এবিএস (ABS) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি গাড়ির ব্রেকিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জানেন কি এই ABS ব্রেকিং সিস্টেম কি? কিভাবে কাজ করে এটি? আসুন জেনে নিই বিস্তারিত। 

ABS এর পুরো কথাটি হলো অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম (Anti lock braking system). সর্বপ্রথম এরোপ্লেনের চাকায় এই এবিএস সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। তারপরে এই ব্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হতে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তির চারচাকা গাড়ি গুলিতে । ১৯৮৮ সালে জনপ্রিয় অটোমোবাইল কোম্পানি বিএমডব্লিউ তাদের মোটরবাইকে ABS সিস্টেম প্রথম ব্যবহার শুরু করে। বর্তমানে ভারতে ১৫০ সিসির উপরে মোটরবাইক গুলিতে ABS সিস্টেম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। 

ড্রাম ব্রেকের পরে আসে তার থেকে উন্নত ব্রেকের সংস্করণ ডিস্ক ব্রেক। কিন্তু এবিএস এসে যাওয়ায় আর গাড়ির চাকা ব্রেক কষার সময় পিছলে যাওয়ার ভয় থাকেনা। এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে প্রায় ৪৫% কমিয়ে দেয় এই ABS সিস্টেম। 

সাধারণ ডিস্ক ব্রেক সিস্টেমে মোটরবাইকের হ্যান্ডেলে একটি ছোটো সিলিন্ডার দেওয়া থাকে, এই সিলিন্ডার এর মধ্যে ডিস্ক অয়েল দেওয়া থাকে। এর নিচে লাগানো থাকে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ এর মত একটি ছোট পাম্প। এই পাম্প মাস্টার সিলিন্ডার থেকে তেলটিকে পাম্প করে চাকার দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। ওই তেল চলে যায় চাকা লাগানো ডিস্ক ক্যালিবারে। এই ডিস্ক ক্যালিবারের মধ্যে থাকে দুটি পিস্টন এবং দুটি ব্রেক প্যাড। কোন কোন ব্রেকে এই পিস্টনের সংখ্যা হতে পারে একটি, আবার কোন কোন ব্রেকে এর সংখ্যা হতে পারে দুটি, এছাড়া চারটিও হতে পারে। ডিস্ক এর তেলটি এসে চাপ দেয় এই পিস্টনের উপরে। তারপরে ওই পিস্টন চাপ দেয় ব্রেক প্যাড এর উপরে। তারপর ওই ব্রেক প্যাড চাপ দেয় ডিস্ক রোটার এর উপরে। এর ফলে চাকা থেমে যায়। এই সিস্টেমে ব্রেক লিভার এর সাথে চাকার সরাসরি যোগাযোগ থাকে। এই সিস্টেমে খুব জোরে ব্রেক করার ফলে মোটর বাইকের চাকা পুরোপুরি লক হয়ে যায়। যার ফলে চাকা পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়ে যায়। 

তবে ABS সিস্টেমে এই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। এই সিস্টেমে ব্রেক লিভার এবং চাকার মাঝখানে একটি ডিভাইস লাগানো থাকে। এবং চাকাতে লাগানো থাকে একটি সেন্সর। এই ব্যবস্থায় ব্রেক কষা হলে তেল সরাসরি চাকায় যায় না। তার পরিবর্তে ওই তেল যায় ওই ডিভাইসটিতে। এবং ওই ডিভাইস চাকার গতি অনুযায়ী তেলটিকে পাঠায় ডিস্ক ক্যালিবারে। অর্থাৎ ডিভাইস এই বুঝেই তেল পাঠায় যে চাকাটি কতটা গতিতে ঘুরছে, কতটা তেল পাঠালে চাকাটি পিছলে যাবে না সেই অনুযায়ী ডিস্ক ক্যালিবারে তেল পাঠানো হয়। ব্রেকিং সিস্টেম এ লাগানো ওই সেন্সর, ডিভাইসটিকে বুঝিয়ে দেয় যে চাকাটি কত জোরে ঘুরছে। সেই অনুযায়ী ওই ডিভাইস তেলটিকে থেমে থেমে পাঠাতে থাকে চাকাতে। আর ফলে সাধারণ ব্রেকের তুলনায় এই ব্রেকিং সিস্টেমে খুব কম সময়ের মধ্যেই এবং কম দূরত্বের মধ্যে মোটরবাইক থেমে যায়। এই সিস্টেমে যখন জোরে ব্রেক করা হয় তখন ডিভাইসটি বুঝে নেয় চাকাটি কতটা পিছলে যাচ্ছে। সেই অনুযায়ী তেলটিকে থেমে থেমে প্রয়োগ করতে থাকে এই ডিভাইসটি। যার ফলে চাকাটি আর পিছলে পড়ার ভয় থাকেনা। 

এই পদ্ধতিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় একটি হল সিঙ্গেলি চ্যানেল এবিএস এবং অপরটি হল ডুয়েল চ্যানেল এবিএস। সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস এর অর্থ হল, মোটরবাইক হলে শুধুমাত্র তার সামনের চাকা তে এবিএস থাকবে, এবং চারচাকা হলে তার সামনে দুটি চাকা তে এবিএস থাকবে। 

ডুয়েল চ্যানেল এর অর্থ হল এবিএস কাজ করবে মোটরবাইক এবং চারচাকা গাড়ির প্রত্যেকটি চাকাতে। সাধারণভাবে ডিস্ক ব্রেক এর তুলনায় এবিএস দেওয়া গাড়ির দাম বেশি বলে ধার্য করা হয়। কিন্তু দাম বেশি হলেও এই এবিএস সিস্টেম লাগানো গাড়িতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কম বলে মানা হয়। তাই মোটর বাইক অথবা চারচাকা কেনার সময় এবিএস সিস্টেম দেওয়া মোটরবাইক অথবা চারচাকা নেওয়াই অধিক শ্রেয়। 
তবে যারা মোটরবাইক এ প্রফেশনাল স্টান্ট করেন, তাদের জন্য এবিএস সিস্টেম কখনোই সুবিধাজনক প্রমাণিত হয় না। তার কারণ স্টান্ট করতে গেলে ব্রেকিং সিস্টেমের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোহীর হাতে থাকা উচিৎ। কিন্তু এবিএস সিস্টেমে ব্রেকিং এর ৬০% থাকবে আরোহীর হাতে এবং বাকি ৪০% থাকবে, ওই ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু স্টান্ট করার জন্য গাড়ির ব্রেকিং কন্ট্রোল সম্পূর্ণ ১০০% আরোহীর হাতে থাকা দরকার পড়ে। 

তবে আরোহী যখন দরকার মনে করবেন তখন এই এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম অফ করে রেখে দিতে পারেন।





Others News

এই ঠান্ডায় দাঁতের ব্যাথায় জেরবার? বাড়িতেই কিছু জিনিসের সাহায্য দূর করুন দাঁতের ব্যাথা

এই ঠান্ডায় দাঁতের ব্যাথায় জেরবার? বাড়িতেই কিছু জিনিসের সাহায্য দূর করুন দাঁতের ব্যাথা


এবারের ঠান্ডা আগের থেকে অনেকটাই প্রবলভাবে পড়েছে।  শীতকালে শরীরে দেখা যায় বেশ কিছু সমস্যা। বিশেষ করে শীতকালে দাঁতের ব্যথায় অনেকেই কষ্ট পান । কিন্তু অনেকেই এই দাঁতের ব্যথা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ঘনঘন পেনকিলার খেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনঘন পেইনকিলার খাওয়া শরীরকে ঠেলে দিতে পারে নানা ধরনের সমস্যার দিকে। তাই ঘনঘন পেইনকিলার না খেয়ে, বাড়িতেই বসে মোকাবিলা করতে পারেন দাঁতের ব্যথার। 
যেমন, 

১) আদা দাঁতের ব্যাথা সারাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাড়িতে একটুকরো আদা নিয়ে সেটা ভালোভাবে চিবিয়ে নিন। তারপরে যে দাঁতটি র জায়গায় ব্যাথা রয়েছে সেই দাঁতের গোড়ায় ভালোভাবে ওই চিবিয়ে নেওয়া আদা রেখে দিন। আস্তে আস্তে ব্যাথা অনেকটাই  হ্রাস পাবে । 

২) রসুন যথেষ্ট কাজ দেয় দাঁতের ব্যাথা সারাতে। যে দাঁতটি তে ব্যাথা থাকবে সেই দাঁতের গোড়ায় রসুন থেঁতো করে তার রস লাগিয়ে দিন। যার ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই দাঁতের যন্ত্রণা অনেকটাই প্রশমিত হবে। 

৩) পেয়ারা পাতার রস থেঁতো করে লাগিয়ে নিন যন্ত্রণা হতে থাকা দাঁতের গোড়ায়। এর ফলে খুব তাড়াতাড়িই দাঁতের যন্ত্রণা প্রশমিত হবে।

৪) লবঙ্গ গুঁড়ো করে সেটি নারকোল তেলের সাথে মিশিয়ে সেটা যন্ত্রণা হতে থাকা দাঁতের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি খুব দ্রুত দাঁতের ব্যাথা কমিয়ে দেয়।