হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, যেতে দেওয়া হচ্ছে না সংবাদমাধ্যমকে

2nd October 2020 6:32 pm News
হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, যেতে দেওয়া হচ্ছে না সংবাদমাধ্যমকে


এ যেন অরাজকতার শাসন চলছে উত্তরপ্রদেশে। হাথরাসে পৈশাচিক ধর্ষণের পর নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার চাপের মুখে তিন সদস্য বিশিষ্ট সিট গঠন করে তদন্ত চালালেও, তাদের তদন্তে কোনমতেই সন্তুষ্ট নয় দেশবাসী। হাথরাসের পর বলরামপুরেও এ রকমই এক পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরপর উত্তরপ্রদেশে এমন অন্ধকারময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ফলে উত্তরপ্রদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলেই। এমতাবস্থায় একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাথরাসে নিহত ওই তরুনীর বাড়িতে গিয়ে তরুনীর পরিবারের লোকজনকে রীতিমতো হুমকি দিচ্ছেন সেখানকার ডিএম। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের সম্মিলিত গর্জন। 

এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের কোন প্রতিনিধিদেরও নির্যাতিতার পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিনিধিদের‌ই পুলিশ, নির্যাতিতার বাড়ির ধারে কাছে ঘেষতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ পুরোপুরি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। 

নির্যাতিতার পরিবারে একটি ছোট ছেলে কোনরকমে পালিয়ে বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছে তাদের বাড়ি ঘিরে রেখেছে প্রায় ১৬০ থেকে ১৯০ জন পুলিশের একটি দল। বাড়ির সকলকে নাকি রীতিমতো হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় এই হল যে, নির্যাতিতার পরিবারের সকলের ফোন কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা ছাড়াও, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সেখানে ঘেঁষতে দিচ্ছে না পুলিশ। 

গতকালই হাথরাস যাওয়ার পথে কংগ্রেস নেতা এবং নেত্রী রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকায় পুলিশ এবং তাদের গ্রেফতার‌ও করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। 
নিহত নির্যাতিতা তরুণীর ভাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি রীতিমতো পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। যখন তখন বাড়ির লোকদের মারধর করছে পুলিশ, এবং বাইরের কারোর কাছে মুখ খুললে রীতিমতো শাস্তি পেতে হবে বলে শাসাচ্ছে পুলিশ, এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নির্যাতিতার ভাই। 

সারা দেশ জুড়ে এই ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে বিস্তর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের লোকেদের না জানিয়ে চুপি চুপি নির্যাতিতা তরুণীর নিথর দেহ তার বাড়ির পাশের ক্ষেতে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে। 
অভিনেতা অক্ষয় কুমার সহ অনেক সেলিব্রিটিরা এই ধর্ষণকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। পরিস্থিতি এমনটাই হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে স্বাধীনতা আজ সত্যিই ভূলুণ্ঠিত।





Others News

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।


এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের অন্তর্গত বাগের গ্রামে। এক মহিলাকে ধর্ষণ করার দায়ে অভিযুক্ত এক যুবককে সম্পূর্ণ নগ্ন করে তার গলায় জুতার মালা দিয়ে প্রকাশ্যে সারা গ্রাম ঘোরানো অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবক অভিযোগ করেছে কোন রকম প্রমাণ ছাড়াই তাকে নির্যাতন করেছে গ্রামবাসীরা, যুবককে এইভাবে নির্যাতন করার জন্য,  প্রায় ৯ জন গ্রামবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিগৃহীত যুবকের নাম রাকেশ রাঠোর। তার বয়স প্রায় ২৯ বছর। জানা গিয়েছে ওই গ্রামের ওই মহিলার বাড়িতে গিয়েছিল রাকেশ। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে নাকি হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই মহিলার স্বামী এবং রাকেশকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। ‌কিন্তু পরের দিন সকাল বেলায় আবার বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে এসে রাকেশের বাড়িতে ঢুকে পড়েন ওই মহিলার স্বামী। তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে রাকেশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাকেশ কে মারধর করেন ওই মহিলার স্বামী এবং তার সাথে থাকা লোকজন, তারপরই রাকেশকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। 

এর পরেই ওই যুবক থানায় অভিযোগ জানায় ‌ । ওই যুবক ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি প্রজেক্ট এর সুপারভাইজার। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে এই অভিযোগ করে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে ওই যুবক। পুলিশ তৎপর হয় এই ঘটনায় যদিও ওই মহিলার বয়ান এখনো পায়নি পুলিশ। তবে ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মোট ৯ জন গ্রামবাসীকে।