হাথরাসে নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার পথে যোগীর পুলিশ আটকালো নির্ভয়া মামলার আইনজীবী সীমা কুশ‌ওয়াহাকেও।

3rd October 2020 7:26 pm News
হাথরাসে নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার পথে যোগীর পুলিশ আটকালো নির্ভয়া মামলার আইনজীবী সীমা কুশ‌ওয়াহাকেও।


অরাজকতার শাসন চলছে উত্তরপ্রদেশে। হাথরাসে পৈশাচিক ধর্ষণের পর নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার চাপের মুখে তিন সদস্য বিশিষ্ট সিট গঠন করে তদন্ত চালালেও, তাদের তদন্তে কোনমতেই সন্তুষ্ট নয় দেশবাসী। হাথরাসের পর বলরামপুরেও এ রকমই এক পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরপর উত্তরপ্রদেশে এমন অন্ধকারময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ফলে উত্তরপ্রদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলেই। এমতাবস্থায় একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাথরাসে নিহত ওই তরুনীর বাড়িতে গিয়ে তরুনীর পরিবারের লোকজনকে রীতিমতো হুমকি দিচ্ছেন সেখানকার ডিএম। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের সম্মিলিত গর্জন।

এর আগেই রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এবং সেইসাথে বিরোধী যেকোনো নেতা-নেত্রীকে হাথরাসে ঢুকতে দেয়নি যোগী আদিত্যনাথ এর পুলিশ। এবার পুলিশ আটকে দিল বিশিষ্ট আইনজীবী সীমা কুশ‌ওয়াহা'কেও। সীমা কুশ‌ওয়াহা হলেন সেই আইনজীবী যিনি ২০১২ সালের নির্ভয়া ধর্ষণ মামলায় নির্ভয়ার মায়ের আইনজীবী ছিলেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্ভয়া মামলার ৪ আসামী কে চলতি বছরেই মার্চ মাসে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হয়। এই সীমা কুশ‌ওয়াহা হাথরাসে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে চেয়ে ছিলেন। তিনি এই উদ্দেশ্যে নির্যাতিতার পরিবারের দিকে রওনা হলে তাঁকে আটকে দেয় যোগীর পুলিশ। দীর্ঘক্ষন তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। ‌সীমা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি যোগীর পুলিশের এই অভব্যতার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি বলেছেন, "ওই অসহায় মেয়েটি যখন অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় ছিলো, সে ভালোভাবে কথাই বলতে পারছিলো না, তখন অবিলম্বে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা অবশ্যই উচিৎ ছিলো প্রশাসনের। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এদিকে মৃত তরুণীর পরিবারের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে ওই তরুণীর পরিবারের লোক ডেকেছেন। কিন্তু পুলিশ সেখানে ঘেঁষতে দিচ্ছে না।" 

এভাবেই একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তথা সংবাদমাধ্যমকেও হাথরাসের ওই নির্যাতিতা তরুণীর বাড়িতে যেতে বাধা দিয়ে চলেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই উঠছে যে , ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে কেন পুলিশ এভাবে সংবাদমাধ্যমকে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাধা দিচ্ছে সেখানে যেতে?





Others News

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।

যৌন নির্যাতনের দায়ে এক যুবককে নগ্ন করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হলো রাজস্থানে।


এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের অন্তর্গত বাগের গ্রামে। এক মহিলাকে ধর্ষণ করার দায়ে অভিযুক্ত এক যুবককে সম্পূর্ণ নগ্ন করে তার গলায় জুতার মালা দিয়ে প্রকাশ্যে সারা গ্রাম ঘোরানো অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবক অভিযোগ করেছে কোন রকম প্রমাণ ছাড়াই তাকে নির্যাতন করেছে গ্রামবাসীরা, যুবককে এইভাবে নির্যাতন করার জন্য,  প্রায় ৯ জন গ্রামবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিগৃহীত যুবকের নাম রাকেশ রাঠোর। তার বয়স প্রায় ২৯ বছর। জানা গিয়েছে ওই গ্রামের ওই মহিলার বাড়িতে গিয়েছিল রাকেশ। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে নাকি হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই মহিলার স্বামী এবং রাকেশকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। ‌কিন্তু পরের দিন সকাল বেলায় আবার বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে এসে রাকেশের বাড়িতে ঢুকে পড়েন ওই মহিলার স্বামী। তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে রাকেশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাকেশ কে মারধর করেন ওই মহিলার স্বামী এবং তার সাথে থাকা লোকজন, তারপরই রাকেশকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়। 

এর পরেই ওই যুবক থানায় অভিযোগ জানায় ‌ । ওই যুবক ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সরকারি প্রজেক্ট এর সুপারভাইজার। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে এই অভিযোগ করে পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে ওই যুবক। পুলিশ তৎপর হয় এই ঘটনায় যদিও ওই মহিলার বয়ান এখনো পায়নি পুলিশ। তবে ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মোট ৯ জন গ্রামবাসীকে।