ভারতে বর্ষা প্রবেশ করেছিল গত পয়লা জুন। প্রতি বছরের চাইতে এবছরের ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে সারা ভারত জুড়ে। বেশ কিছু জায়গায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। এবার বর্ষার বিদায়ের পালা। কিন্তু বিদায় পর্বে আরো রক্তচক্ষু রাঙাচ্ছে বর্ষা। অন্ধপ্রদেশ থেকে শুরু করে, হায়দ্রাবাদ সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রবল বৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে । অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটেছে। গভীর নিম্নচাপ এর জন্য টানা বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে ওইসব এলাকায়। রাস্তা দিয়ে রীতিমত তীব্র বেগে স্রোত যাচ্ছে। ফেঁসে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন মানুষ, ফেঁসে গিয়েছে বাড়িঘর, যানবাহন । অন্ধ্রপ্রদেশে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। অন্ধ্রপ্রদেশে আরো ৪৮ ঘন্টা ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
হায়দরাবাদেও জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। সেখানে প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভেসে গিয়েছে। হায়দ্রাবাদের ফলকনামা তে ব্যাপক বৃষ্টিপাতে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে হায়দ্রাবাদের স্কুল এবং কলেজ সহ অফিসগুলি কেও। হায়দ্রাবাদে ১৫০ টি বাড়ি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
বেশ কয়েকজন মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন । জানা গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় প্রায় ১২ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে প্রকৃতির রোষের মধ্যে। বড় বড় শহরগুলিতে বিদ্যুতের ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
তেলেঙ্গানার প্রায় ১৪ টি জেলা বৃষ্টিতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে দেওয়াল চাপা পড়ে অন্তত তিনজন মানুষ মারা গিয়েছেন।
বহু মানুষজন বাড়ির মধ্যে আটকে পড়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এর লোকজন আটকে পড়া মানুষের উদ্ধারের কাজে হাত লাগিয়েছেন। এছাড়া খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেনা নামানো হতে পারে। পানীয় জল এবং খাদ্যের ভয়াবহ সংকট নেমে এসেছে দুর্গত এলাকা গুলিতে। প্রশাসন প্রাণপণ চেষ্টা করছে যাতে কোন মানুষ অভুক্ত হয়ে না থাকে।
তবে আরও ৪৮ ঘন্টার বৃষ্টির পূর্বাভাস তটস্থ শহরবাসীরা।