বর্তমানে ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্নচিহ্ন উঠতে শুরু করেছে ভারতে নারীসুরক্ষা ব্যবস্থার উপরে। হাথরাস থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র , বিহার, রাজস্থান প্রভৃতি একের পর এক জায়গা থেকে নিরন্তর আসছে নারী নির্যাতনের খবর। হাথরাসে পৈশাচিক ধর্ষণের পর নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার চাপের মুখে তিন সদস্য বিশিষ্ট সিট গঠন করে তদন্ত চালালেও, তাদের তদন্তে কোনমতেই সন্তুষ্ট নয় দেশবাসী। হাথরাসের পর বলরামপুরেও এ রকমই এক পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরপর উত্তরপ্রদেশে এমন অন্ধকারময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ফলে উত্তরপ্রদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলেই।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সারা ভারতজুড়ে। ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ধর্ষকের বুকে ছুরি বসিয়ে দিলেন যুবতী। এবং উপর্যুপরি ধর্ষককে প্রায় ২৫ বার ছুরি দিয়ে রীতিমত আঘাতও করে সে। এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোপালে। ওই যুবতীর আত্মরক্ষার জন্য এই কাজটি তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সমর্থন করেছেন। ওই যুবতী ধর্ষককে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন।
ওই যুবতী পুলিশকে জানিয়েছেন ২০০৫ সাল নাগাদ তাঁকে ধর্ষণ করেছিল তাঁর গুণধর প্রতিবেশী ব্রজভূষণ। এই কর্মকান্ডের ভিডিও তুলে রেখেছিল সে। এরপর বহুবার তাকে ধর্ষণ করেছে ওই গুণধর ব্যক্তি। কিন্তু ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি ওই যুবতী।
রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল করে পর পর গত ১৫ বছর ধরে যুবতীকে ধর্ষণ করে আসছে ব্রজভূষণ। বিয়ের পরেও ওই যুবতীকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করত ওই নরপিশাচ। দুই সন্তানের মা যুবতী ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেননি।
স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েকদিন আগে ওই যুবতীর বাড়িতে যায় ব্রজভূষণ। তখন যুবতী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন রীতিমতো, কিন্তু কিছুতেই নিজেকে রক্ষা করতে পারছিলেন না। তখন রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে ব্রজভূষণ এর বুকে সটান বসিয়ে দেন ওই তরুণী। তারপর বহুদিনের অত্যাচারের ঘৃণা পরবশত পরপর পঁচিশ বার ছুরি মারেন ওই যুবতী পিশাচ ব্রজভূষণের শরীরে। রক্তাক্ত ব্রজভূষণ লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।
ব্রজভূষণ কে হত্যা করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই যুবতী। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই যুবতী নেই কাণ্ডকে অনেকেই বাহবা জানিয়েছেন। আবার অনেকেই বলেছেন যে আইনের উপরে সর্বাগ্রে ভরসা রাখা উচিত।