হলুদ এমন একটি উপাদান যা মনুষ্য জীবনে খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। বহু প্রাচীনকাল থেকেই হলুদকে এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ বলে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনিতেই গৃহস্থালির প্রতিদিনের রান্নাবান্নায় হলুদের ব্যবহার করা হয় তাছাড়া যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে হলুদের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষিত হয়।
প্রাচীন কবিরাজরা বলতেন হলুদের মধ্যে রয়েছে অসামান্য ঔষধি গুন। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ আয়ুর্বেদ এর উপর ভরসা রাখতে শুরু করেছেন। তাই অনেকেই এখন হলুদের প্রয়োগের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মানুষের শরীরে ত্বকের মধ্যে যেকোনো কালো দাগ অথবা অন্য কোনো ছোপ নিবারণ করতে প্রভূত সহায়তা করে হলুদ। নিয়মিত ত্বকে কাচা হলুদ এর প্রয়োগ করতে থাকলে, ত্বকে বয়সের ছাপ পড়েনা। তবে রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে কাঁচা হলুদ সরাসরি ত্বকে না লাগিয়ে, ত্বকের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি অন্যান্য আয়ুর্বেদ উপাদানের সাথে ব্যবহার করা উচিত।
গৃহস্থালীতে রান্না করতে করতে অনেকেই ফুটন্ত তেলের মাধ্যমে অথবা আগুনে শরীরের যে কোন অংশে আঘাত পান, তাদের বেশ বড়োসড়ো ফোস্কা পড়ে যায়। এরকম যদি শরীরের কোথাও পুড়ে যায় তাহলে সামান্য দুধে খানিকটা হলুদ মিশিয়ে ওই পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিতে পারেন। এর ফলে ওই ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাবে এবং পোড়া দাগটা আস্তে আস্তে মেলাতে শুরু করবে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে হলুদ এর কোন বিকল্প নেই। হলুদ গুঁড়ো, মধু এবং দুধ মিশিয়ে একটি ফেসপ্যাক তৈরি করে যদি সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এই ফেসপ্যাক মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে অচিরেই আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
যারা মুখের মধ্যে ব্রণর সমস্যায় ভোগেন, তাঁরাও মুখে কাঁচা হলুদ, নিমপাতা মাখতে পারেন, অথবা চন্দনের সাথেও মাখতে পারেন।
শীতকালে অনেকেই গোড়ালি ফাটার মুখোমুখি হন। শীতকালে যাদের গোড়ালি ফাটে তাঁরা দুই চামচ নারকেল তেলের সাথে এক চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি ফাটা গোড়ালিতে লাগালে, এই সমস্যা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।