সারা ভারতে কয়েক মাসের মধ্যেই নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরপ্রদেশের হাত রসের গণধর্ষণ কাণ্ড সারাদেশে তীব্রভাবে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এই সমস্ত ঘটনা গুলি থেকে এই বিষয়টি খুবই উদ্বেগের যে ভারতের নারী সুরক্ষার দিকটি অন্ধকারে তলিয়ে যেতে বসেছে। এতকিছু আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও ধর্ষকদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। শুধু মধ্য বয়সী মহিলারাই নয় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন না ধর্ষক দের হাত থেকে। এ রকমই এক ঘটনা ঘটালো জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার।
জানা গেছে ১০ বছর ধরে ৫০ টিরও বেশি শিশু সেই ইঞ্জিনিয়ারের লালসার শিকার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এই ধর্ষক ইঞ্জিনিয়ার উত্তরপ্রদেশ সরকারের সেচমন্ত্রকের ইঞ্জিনিয়ার। এক বড়োসড়ো চক্রের সাথে জড়িত ছিল এই ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু জানা গেছে এই ইঞ্জিনিয়ার মানসিক বিকারগ্রস্থ।
দীর্ঘদিন ধরে এই ইঞ্জিনিয়ারকে হাতে আনার চেষ্টা করছিল পুলিশ। কিন্তু কোন রকম ভাবে সফল হচ্ছিলেন না এই কাজে। চাইল্ডপর্নোগ্রাফি' দৃশ্য ভিডিও আপলোড করছিল ওই যুবক সেখান থেকেই পুলিশ তদন্ত করে এই ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করে। বিশেষ ক্রাইম দপ্তরের গোয়েন্দারা এই কাজে সাহায্য করেছেন পুলিশকে।
দীর্ঘদিন থেকেই চিত্রকূট, বান্দা ও হামিরপুর এই তিন জেলা থেকে শিশু অত্যাচারের অভিযোগ আসছিল।
এই শিশু অত্যাচারের পরিমাণ দিনকে দিন বেড়েই চলছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদেরকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখত। এবং অধিকাংশ শিশুর পরিবারই ভয় ও লজ্জায় পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পারেনি। পরে সিবিআই কেসটি হাতে নিলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি তদন্ত থেকে জানা গেছে তার বাড়ি থেকে 8 লাখ টাকা নগদ, ল্যাপটপ, আটটি মোবাইল, এবং সেক্স টয় উদ্ধার করা হয়েছে। এবং শিশুদের ওপর যে যৌন নির্যাতন চালানো হতো তার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সেই ঘরেই লুকিয়ে রেখেছিল। ভিডিও ফুটেজ তুলে রাখার একটাই উদ্দেশ্য ছিল যাতে সেগুলো থেকে ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে টাকা রোজগার করা যায়।
ভারতবর্ষে এত নিয়ম-কানুন থাকা সত্ত্বেও শিশু নিগ্রহ, শিশুদের ওপর অত্যাচার কমানো যায়নি। পর্ণ সাইটে নিষেধাজ্ঞা জারি করেও কোনো রকম লাভ হয়নি।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাই সাইবার বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছে। একটি বিশেষ সমীক্ষা থেকে জানা গেছে পর্নোগ্রাফি অন্ধকারময় জগতের তালিকায় প্রথম হয়েছে কেরল।