শীতকাল আসার সাথে সাথে মানুষের শরীরে অনেক রকম রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এমনিতেই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ভাইরাল ফিভার থেকে শুরু করে নানা রকম রোগের আরম্ভ হয়। তার সাথে পেট গরম, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।বিজ্ঞানীরা আশা করছেন শীতকালে করোনা ভাইরাস এর সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। শীতকালে TSH হরমোনের বৃদ্ধি হয় মানব শরীরে। TSH বৃদ্ধি পেলে থাইরয়েড লক্ষ্য করা যায়।
থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন শীতকালে হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এই হরমোনের প্রভাবে অনেক সময় মানসিক অবসাদ দেখা যায়। থাইরয়েড থেকে মুক্তি পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেই নিয়ম গুলি কি কি--
১) শরীর চর্চা করা - যারা থাইরয়েড আক্রান্ত তাদের আধঘন্টা সকালবেলা হাঁটার পরামর্শ দেন একসাথে বি চিকিৎসকরা। থাইরয়েডে মেটাবলিজম রেট কমে যায় তাই চিকিৎসকরা হাঁটাচলা করতে বলেন এছাড়া যারা যোগ অভ্যাস করেন তারাও থাইরয়েড থেকে খুব সহজে সুফল পেতে পারে। মেটাবলিজম রেট অনেকটা বৃদ্ধি পায়।
২) সূর্যের তাপ নেওয়া - সূর্যের রশ্মিতে সেরোটোনিন লেভেল ঠিক রাখে তাই আবহাওয়া পরিবর্তনকালীন যে রোগ তৈরি হয় সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে। প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে মিশিয়ে দিলে শরীর ও মন এমনি ভাল হয়ে যায়। তাই থাইরয়েড কমাতে সূর্যের রশ্মি পরোক্ষভাবে সাহায্য করে বলে জানা যায়।
৩) থার্মোজেনিক খাবার খাওয়া - শীতকালে এমনি শরীরকে গরম রাখা উচিত। তার জন্য সেই রকমই খাবার দাবার খাওয়া প্রয়োজন। থার্মোজেনিক খাবার খেলে ক্যালরি বার্ন করে। শীতকালে শরীর গরম রাখতে থার্মোজেনিক খাবার যেমন মরিচ এবং যেকোনো ধরনের মাংস খেতে হবে।
৪) বাইরে খাবার জিনিস না খাওয়া - যারা স্পাইসি ফুড খেতে পছন্দ করেন তারা শীতকালের এইসব খাবার থেকে একটি বিরত থাকবেন। এতে থাইরয়েড এর মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া ওজন বৃদ্ধির একটি আশঙ্কা থেকে যায়।
৫) থাইরয়েড পরীক্ষা করা - আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড হরমোন নিঃসরণ করে না। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় এই সময় চিকিৎসকরা, যারা থাইরয়েডের ওষুধ সেবন করেন তাদের ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দেন।
এই পদ্ধতি গুলি সঠিকভাবে মেনে চললে থাইরয়েড এর হাত থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।